মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১৭ অপরাহ্ন
দিনের পর দিন ক্লান্ত লাগছে? পেট ফুলে আছে? হতে পারে লুকানো ফ্যাটি লিভারের ইশারা!
অনলাইন ডেস্ক
বর্তমান যুগে নীরব ঘাতক হয়ে উঠেছে ফ্যাটি লিভার। আপনি জানতেও পারবেন না, অথচ আপনার লিভারে জমছে অতিরিক্ত চর্বি! সামান্য একটুখানি আলট্রাসনোগ্রামেই ধরা পড়ছে ফ্যাটি লিভার, তাও ১৮ বছরের তরুণ থেকে শুরু করে ৭০ বছরের বৃদ্ধ পর্যন্ত। বাংলাদেশে প্রতি চারজনে একজন এই রোগে ভুগছেন—চমকে উঠার মতো তথ্য!
ফ্যাটি লিভার দুই প্রকার—একটি অ্যালকোহলিক, অন্যটি নন–অ্যালকোহলিক স্ট্যায়াটো হেপাটাইটিস (NASH)। আমাদের দেশে দ্বিতীয়টির প্রভাবই বেশি। কারণ? অতিরিক্ত ক্যালোরি, অলস জীবন, বংশগত সমস্যা, ইনসুলিন প্রতিরোধ, টাইপ–২ ডায়াবেটিস ইত্যাদি।
বিশেষ করে যাঁরা মেটাবলিক সিনড্রোমে ভুগছেন—যেমন পেটের সামনে চর্বি জমে থাকা, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ক্ষতিকর ট্রাইগ্লিসারাইড বা এলডিএল বেশি—তাঁদের ফ্যাটি লিভার হওয়ার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি।
আর সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো, লিভার সিরোসিস বা ক্যানসারের পূর্ব ধাপ হিসেবে কাজ করতে পারে এই নন–অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার। শুরুতে কোনো লক্ষণই নাও থাকতে পারে! তবে কেউ কেউ পেটের ডানদিকে অস্বস্তি, ক্লান্তি বা দুর্বলতা অনুভব করেন।
আলট্রাসনোগ্রামে সহজে ধরা পড়ে ফ্যাটি লিভার। তবে আরও নিখুঁতভাবে জানতে করা যায় ফাইব্রোস্ক্যান। চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য প্রয়োজন হতে পারে লিভার বায়োপসি।
চিকিৎসার কী উপায়? সত্যি বলতে নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই। মূল চিকিৎসা—জীবনযাত্রার পরিবর্তন। অন্তত ১০% ওজন কমান, প্রতিদিন ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটুন, কোলেস্টেরল ও ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
খাবারে পরিবর্তন আনুন: কম খান ভাত, রুটি, আলু, মিষ্টি। বেশি খান শাকসবজি, তাজা ফল, ওটস, সামুদ্রিক মাছ (তৈলাক্ত অংশ বাদে)। এড়িয়ে চলুন ফাস্ট ফুড, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, লাল মাংস, অতিরিক্ত লবণ।
অলসতা নয়, সচেতনতা-ই ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধের প্রথম শর্ত। আপনার লিভার ভালো তো, বাঁচাও আজই!